সেই মেয়েটা
নাম
খুব
অদ্ভুত
লাগছে
তাই
তো
? কিন্তু
আমার
কিছু
করার
নাই
।
আমি
আগেও
কয়েকটা
মেয়েদের
নিয়ে
গল্প
লিখেছি
।
তার
মধ্যে
পুতুল
ও
তুতুল
আমার
খুব
প্রিয়
।
কিন্তু
এটা
অন্য
রকম
গল্প।
আগের
গুলো
সমস্যা
জর্জরিত
গল্প
ছিল
।
এটা
মজার
ও
ভাল
লাগার
গল্প
।
সবটাই
আনন্দের
।
আগের
গল্প
গুলো
ছিল
কিছুটা
বাস্তব
ও
কিছুটা
কাল্পনিক
।
কিন্তু
এটা
সম্পূর্ণ
বাস্তব
ও
সত্য
ঘটনা
।
আর
যাকে
নিয়ে
লিখতে
বসেছি
সে
ভীষণ
ভাবে
বর্ত্তমান
ও
আমাদের
বাসার
দুটো
বাড়ি
পরেই
তার
বাস
।
তবে
এটাও
সত্যি
আমি
তার
নাম
জানি
না
।
সেই
করনে
গল্পটার
নাম
দিলাম
“সেই
মেয়েটা
“।
যাই
হোক
।
নামে
কি
আসে
যায়
।
ঘটনাটাই
প্রধান
।
তবে
ঘটনা
বলার
আগে
পরিবেশের
কিছুটা
বর্ণনা
প্রয়োজন
।
এছাড়া
তো
ছোটগল্প
হয়না
।
ঘটনার
স্থান
পশ্চিম
আফ্রিকার
এক
বিখ্যাত
শহর
লেগসের
এক
জনবহুল
বসতি
ইলুপেজু
।
এই
ইলুপেজু
কথাটার
কিন্তু
একটা
বিশেষ
মানে
আছে
।
তবে
সে
কথা
পরে
হবে
ক্ষণ
।
এই
লেগস
শহরটা
দারুণ
।
আমার
খুবই
প্রিয়
শহর
।
আর
এই
লেগসে
কিছুকিছু
এলাকা
ভারতীয়দের
বাস
।
এই
ইলুপেজুতে
বিশেষ
করে
ভারতীয়
বেশি
।
একসময়
এখানে
৯০শতাংশ
বাড়িতে
ভারতীয়দের
বাস
ছিল
।
এখন
সেটা
কিছুটা
কমে
৭০শতাংশে
নেমে
এসেছে
যদিও
এখনো
এই
এলাকা
ভারতীয়
প্রধান
।
মিনি
ইন্ডিয়া
বলা
যেতে
পারে
।
এখানই
ভারতীয়দের
স্কুল
, মন্দির
,বাজার
ও
রেস্টুরেন্টের
ছড়াছড়ি
।
যে
সব
ভারতীয়
পরিবার
নিয়ে
এই
শহরে
বাস
করে
তাদের
প্রথম
পছন্দ
ইলুপেজু
বলা
চলে
।
এখানে
মোটামুটি
সবাই
সবাই
কে
চেনে
জানে
।
একটা
ভারতীয়
গ্রাম
বললে
ভুল
হয়
না।
এই
ইলুপেজুতে
আমদের
বাসা
এক
সুন্দর
পরিবেশে
।
বেশি
হই
হট্টগোল
নাই
।
এবং
বিশেষ
করে
এই
গলিতে
অনেক
সমৃদ্ধশালী
মধ্যবিত্ত
দেশি
মানুষের
বাস
।
রাজনৈতিক
মানুষের
বাসও
আছে
যে
কারণে
উপদ্রব
কম
।
আমরা
সন্ধ্যে
সাতটা
আটটা
পর্যন্ত
আরামসে
রাস্তায়
ঘুরে
বেরাতে
পারি
।
সিকিউরিটির
ব্যবস্থা
খুবই
ভাল
।
মোটামুটি
পাঁচটা
বাজলেই
সবাই
রাস্তায়
।
বাচ্চারা
দৌড়াদৌড়ি
শুরু
করে
।
পুরুষ
ও
মহিলারা
সান্ধ্যভ্রমনে
ব্যস্ত
হয়ে
পরে
।
এই
কাণ্ডকারখানা
চলে
যতক্ষণ
না
আঁধার
নেমে
আসে
।
আমার
যথারীতি
কোন
বন্ধুবান্ধব
নাই
।
একাই
হাঁটি
।
অন্যেরা
দলবেঁধে
হাঁটে
।
আমার
তাতেই
সুবিধা
।
কারণ
আমি
তো
তাদের
দেখি
।
বলা
ভাল
পর্যবেক্ষণ
করি
।
সে
দু
থেকে
ষাট
ছেলে
মেয়ে
সবাই
কে
দেখি
।
মানুষ
দেখতে
আমার
ভাল
লাগে
।
তবে
আজ
কাল
মেয়েদের
পর্যবেক্ষণ
করতে
ভয়
করে
।
একটা
নতুন
শব্দ
শুনছি
“স্টক
করে”
।
আমাদের
সময়
এই
শব্দটা
ছিলনা
।
এর
মানেটা
যে
কি
জানি
না
।
হয়তো
কোন
মানেই
নেই
।
আরে
বাবা
মানুষ
না
দেখলে
লিখবো
কি
ভাবে
।
কিন্তু
আজ
কাল
ভয়
করে
।
যাই
হোক
সেই
মেয়েটা
ও
আমাদের
পাড়াতেই
থাকে
।
সে
যে
মেয়ে
সেটাই
জেনেছি
অনেক
পরে
।
প্রত্যেক
দুমাস
অন্তর
ওকে
কেউ
ন্যাড়া
করে
দায়
।
ওর
বাবা
ও
ভাইদের
ও
একই
অবস্থা
।
আর
এই
মেয়ের
দস্যিপনা
ও
পোশাক
দেখলে
বোঝা
মুশকিল
সে
ও
একটা
মেয়ে
।
তবে
আজকাল
দেখেছি
কিছুটা
মেয়েদের
মত
পোশাক
পরে
।
কিন্তু
দস্যিপনা
সমানে
চালিয়ে
যায়
।
মোটের
উপর
সে
লবঙ্গলতিকা
টাইপ
নয়
।
তবে
এখানে
ভারতীয়
স্কুলের
কোন
মেয়েই
লবঙ্গলতিকা
টাইপ
নয়
।
এটা
এই
স্কুলের
এক
বিরাট
দক্ষতা
।
আমার
ভাল
লাগে
।
কেউ
বেশি
দস্যি
কেউ
একটু
কম
।
যাই
হোকে
আমার
এই
গল্পের
নায়িকা"সেই মেয়ে" ।
হ্যাঁ
।
যেটা
বলে
দেওয়া
ভাল
সেটা
হল
এই
যে
আমাদের
এই
পাড়ার
লাগোয়া
একা
ভাল
পার্ক
আছে
।
আমি
সেখানেই
হাঁটতে
ভালবাসি
।
সেটা
কেউ
ভারতীয়দের
পার্ক
বলা
ভাল
।
বিকেল
হলেই
অনেক
ভারতীয়
মহিলা
পুরুষ
কাচ্চা
বাচ্চা
ভীর
করে
।
মেয়েরা
কিছুক্ষণ
হাঁটাহাঁটি
করলেও
তাদের
মূল
উদ্দেশ্যটা
হল
জোট-বেঁধে গল্প করা । রোজ কি যে এত কথা বলে বুঝি না । সবাই সারাটা সময় কথা বলে । ঠিক কে যে শুনছে বোঝা মুশকিলে । এই ব্যাপারটা শুধু ভারতীয় মহিলাদের বিশেষত্ব । চাইনিজ বা ইউরোপের মহিলারা কথা বলে না । আফ্রিকান মহিলাদের মধ্যেও এটা দেখিনা । যাইহোক কি আর করা যাবে । আমি পার্কে হাঁটি আর এই সব দেখি । কিছু এদেশীয় বাচ্চা ও খেলা করে । কিন্তু একটা বিশেষ ব্যাপার হল এদেশীয় এবং ভারতীয় বাচ্চারা একসাথে খেলা করে । আমার মনে হয় ভারতীয় বাচ্চাগুলো এদেশে বাচ্চাগুলোর সাথে আন্তরিক ভাবে মিশে যেতে পারে । ওদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ দেখিনা ।
আমার
সেই
মেয়েটাও
মাঝে
মধ্যে
সেখানে
হাজির
হয়
।
তার
বাবা
ও
মা
কে
ও
সেখানে
দেখেছি
মাঝে
মধ্যে
।
মেয়েটার
বয়স
৯
অথবা
৮
।
জানিনা
কোন
ক্লাসে
পড়ে
।
ওর
কিছু
সমবয়সী
মেয়ে
বন্ধুও
আছে
তবে
যতদূর
মনে
হয়
সে
তার
পরোয়া
করে
না
।
এমনি
একটা
বিকালে
আমি
হাঁটবো
বলে
পার্কে
গিয়েছি
।
বেশ
মানুষজনের
সমাগম
।
সবাই
ব্যস্ত
।
বাচ্চা
ছেলে
মেয়েগুলো
মাঠের
মধ্যে
খেলছে
।
কেউ
বা
বল
নিয়ে
অথবা
কেউ
সাইকেল
এই
সব
ওদের
খেলার
বিষয়
।
আমি
দেখেছি
সেই
মেয়েটাও
সেখানে
আছে
কিন্তু
ওর
বাবা
বা
মা
কে
দেখিনি
।
তারমানে
সে
একাই
সেখানে
হাজির
হয়েছে
।
সে
ভাল
।
এদেশে
বাচ্চারা
ও
মেয়েরা
খুব
সিকিওর
।
এখানে
মেয়েদের
কেউ
আলাদা
করে
দেখে
না
।
খুব
ভালবাসে
ও
সম্মান
করে
।
আর
বাচ্চাদের
তো
সবাই
খুব
ভালবাসে
ও
প্রটেক্ট
করে
।
হঠাৎ
দেখি
সেই
মেয়েটা
আমার
দিকে
দৌড়ে
আসছে
।তার
সাথে
আমার
ফর্মাল
আলাপ
নাই
।
কিন্তু
রোজই
আমাকে
দেখে
।
অবশ্যই
চেনে
।
দেখি
তার
পেছনে
একটা
নাইজেরিয়ান
ছেলে
দৌড়ে
আসছে
।
তারা
সমবয়সী
।
বুঝলাম
কিছু
গণ্ডগোল
বাঁধিয়েছে
আমার
সেই
মেয়ে
।
কিন্তু
আমি
কিছু
বোঝার
বা
করার
আগে
ছেলেটা
সেই
মেয়েটাকে
ধরে
তার
পিঠে
এক
সজোরে
কিল
মারল
।
আমি
খুব
আঘাত
পেলাম
।
এই
ঘটনার
জন্য
একদম
প্রস্তুত
ছিলাম
না
।
মাঠ
ভর্তি
মানুষ
।
সবাই
দেখল
ব্যাপারটা
।
কিলটা
মেরে
ছেলেটা
বেশ
আত্মতুষ্টি
পেয়েছে
মনে
হল
।
আমি
এটাও
বুঝলাম
আমার
সেই
মেয়ে
নিশ্চয়ই
এমন
কিছু
করেছে
যে
ছেলেটা
এত
রেগে
গেছে
।
যাইহোক
আমি
কিছুটা
এগিয়ে
মেয়েটাকে
ধরে
কাছে
টেনে
নিলাম
।
সেও
আমার
কোলে
মুখ
লুকালে
।
আমি
ভাবলাম
বুঝি
খুব
লেগেছে
।
ওর
পিঠে
কয়েকবার
মালিস
করলাম
।
ভাবছি
কেঁদে
ফেলবে
নাতো
।এমন
সময়
হঠাৎ
সে
আবার
ঘুরে
দাঁড়ালো
।
ততক্ষণে
ছেলেটা
আবার
নিজের
খেলার
স্থানে
ফিরে
গেছে
।
এবার
মেয়েটা
ফিরে
চলল
ঐ
ছেলেটার
দিকে
।
আমি
বুঝলাম
এবার
মহাভারত
আসন্ন
।
আমিও
ওর
পেছনে
চললাম
।
কয়েকটা
সেকেন্ডের
মধ্যে
সেই
মেয়ে
ঐ
ছেলেটার
পিঠে
দিল
দুই
কিল
।
ছেলেটা
মাটিতে
বসে
পড়লো
।
হয়তো
সে
এই
ঘটনার
জন্য
মোটেই
তৈরি
ছিলনা
।
চারিদিকে
হাহাকার
শুরু
হল
।
এ
কি
হল
।
এবার
নির্ঘাত
এক
দুঃসময়
হাজির
হবে
।
একটা
ভারতীয়
একটা
নাইজেরিয়ান
ছেলেকে
মারল
এ
কম
ব্যাপার
নয়
।
ছেলেটার
বড্ড
লেগেছে
।
সেই
মেয়ে
কিন্তু
সেখানেই
দাঁড়িয়ে
আছে
।
আমি
তো
হতবাক
।
কি
করি
।
ছেলেটাকে
ধরে
ওঠালাম
।
স্মরি
স্মরি
বললাম
।
দেখি
ছেলেটা
কেঁদে
ফেলেছে
।
মহামুসকিল
।
হঠাৎ
মনে
হল
এর
দ্রুত-সমাধান একটা ই আছে । আমি আমার পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা ২০০ নাইরার নোট বারকরলাম । ছেলেটার হাতে দিলাম । ছেলেটাও মনে হয় এটার জন্য তৈরি ছিলনা । তবে সে অতিদ্রুত নাইরাটা নিয়ে চোখের জল মুঝে নিলো । আমি ভাবি যাক সমস্যা মিটল । এবার সেই মেয়েটার হাত ধরে বললাম “লেটস গো”। সেও আমার সাথে বাড়ির পথে চলল । শুধু কয়েক পা এগিয়ে বলল “ডোন্ট টেল মাম্মা”। আমি বলি “হোয়াট । আই ডিডন্ট শী এনি থিং”। আবার সে আমার হাতটা ছেড়ে লাফাতে লাফাতে বাড়ির পথ ধরল ।……………শেষ ।
No comments:
Post a Comment