দেখতে দেখতে মহালয়া পার হয়ে দেবীপক্ষ শুরু ।
আমার ছেলেবেলা কেটেছে এক অজ-গ্রামে। নাছিল বিজলিবাতি নাছিল টেলিভিশন। ছিল দিগন্ত-জোরা সবুজ মাঠ আর নীল আকাশ। দুচোখ মেলে দেখতাম নীল আকাশ, সোনালি রোদ, সাদা মেঘ। গ্রামের বাড়িতে ছয়টা ঋতু অনুভব করায়ায়। অনুভব করায়ায় ১২ টা মাস। কখনো মাঠ , ময়দান, গাছপালা সব সবুজে সবুজ আবার কখনো রুক্ষ মাঠ , ভাদ্র মাসের প্রখর রোদ যেন সব জ্বালিয়ে দিত চাই। কখনো হিম ঠাণ্ডা বাতস কখনো আষ...
আমার ছেলেবেলা কেটেছে এক অজ-গ্রামে। নাছিল বিজলিবাতি নাছিল টেলিভিশন। ছিল দিগন্ত-জোরা সবুজ মাঠ আর নীল আকাশ। দুচোখ মেলে দেখতাম নীল আকাশ, সোনালি রোদ, সাদা মেঘ। গ্রামের বাড়িতে ছয়টা ঋতু অনুভব করায়ায়। অনুভব করায়ায় ১২ টা মাস। কখনো মাঠ , ময়দান, গাছপালা সব সবুজে সবুজ আবার কখনো রুক্ষ মাঠ , ভাদ্র মাসের প্রখর রোদ যেন সব জ্বালিয়ে দিত চাই। কখনো হিম ঠাণ্ডা বাতস কখনো আষ...
াঢ়ের ক্লান্তিহীন অঝরে বৃষ্টি। কখনো খেতে ফসল বেড়ে উঠছে। সোনালি ফসল। কখনো দিগন্ত জোড়া সুধু ফাঁকা মাঠ। দিঘি ভরা জল করে ঢলঢল কখনো হাঁটু না ডোবা জল।
অনেক আগের কথা । এই দিন ভোরবেলা উঠতে হত। বাড়িতে সবাই জেগে যেতো। আমরা একটা শতরঞ্চি পেতে বসতাম। আরও অনেক মানুষ আসত আমাদের বাড়ি। দাদুর একটা বড় রেডিও ছিল। তাতে শুরু হত মহালয়া। সবাই চুপ। একটা কথা কেউ বলতনা। মহালয়া শুরু হত অন্ধকারে। আস্তে আস্তে ভোর হত। শেষ যখন হত তখন সকাল। সেটাই হত পূজোর শুরু। মহালয়ার পর স্কুল ছুটি। আত্মীয়পরিজন আসতে শুরু করত। অনেকে প্রথমে অচেনা থাকতো। পরে বন্ধু হয়ে যেতো। অন্য বাড়িতেও অনেক মানুষ আসতো। গ্রামটা আস্তে আস্তে পরিপূর্ণ হয়ে উঠত। অনেক মানুষ কিছু চেনা কিছু অচেনা। খুব ভাল লাগত। এরমধ্যে মা দূর্গা তাঁর পূর্ণরূপ ধারণ করতেন। পঞ্চমীর দিন গভীর রাতে শেষ হত ঠাকুর তৈরি। সারারাত আমরা সবাই ঠাকুর তৈরি দেখতাম। ভোর হওয়ার আগে মা দূর্গা নিজের আসনে বসতেন। খুব আড়ম্বর ছিলনা। সোলার সাজ ও এক চালার মূর্তি। তাতেই এত সুন্দর লাগতো যেটা প্রকাশ করা মুস্কিল। ভোর চারটের সময় শুরু হত সানাই। মাকে বরন হত ঊষা লগ্নে। তার পর শুরু হত ষষ্টির বোধন। সে অনেক ব্যাপার। বলে শেষ করা মুশকিল।
ছোটবেলায় পুজো মানেই ছিল বাড়ি ভর্তি লোকজন। অন্য সময় দাদু ঠাকুমা কাকিমা আমি ও আমার সমবয়সী খুড়তুতো ভাই – এই ছিল পরিবার। পুজোর সময় আসতো আমার মা বাবা ও ভাইবোন রা। সে যে কি আনন্দ। এছাড়া আসতো জ্যাঠা কাকা জেঠিমা ও জাঠতুতো দাদা দিদিরা। বাড়ি ভর্তি লোক - পড়াশোনা বন্ধ, খালি খেলা আর খেলা। শাসন ও অনেক কমে যেত ঐ কদিন। নতুন জামা কেনা হত। সবার জন্য এক রকম। আমরা চন্ঠিমন্ঠপে একসাথে থাকলে সে এক অদ্ভুত দৃশ্য ।আমাদের পরিবারে মেয়েরা সব সময় দামি। দিদি ও বোনদের পোশাক হত খুব সুন্দর ও দামি। আমরা সবমিলিয়ে সাতভাই। সবার এক রং এর পোশাক হত। মনেহত ফৌজ চলেছে। যাই হোক তখন ওটা কোনও মুখ্য বাপ্যার ছিলনা। আনন্দ ছিল প্রতিক্ষণে।
আবার পূজো এসে গেছে।
অনেক আগের কথা । এই দিন ভোরবেলা উঠতে হত। বাড়িতে সবাই জেগে যেতো। আমরা একটা শতরঞ্চি পেতে বসতাম। আরও অনেক মানুষ আসত আমাদের বাড়ি। দাদুর একটা বড় রেডিও ছিল। তাতে শুরু হত মহালয়া। সবাই চুপ। একটা কথা কেউ বলতনা। মহালয়া শুরু হত অন্ধকারে। আস্তে আস্তে ভোর হত। শেষ যখন হত তখন সকাল। সেটাই হত পূজোর শুরু। মহালয়ার পর স্কুল ছুটি। আত্মীয়পরিজন আসতে শুরু করত। অনেকে প্রথমে অচেনা থাকতো। পরে বন্ধু হয়ে যেতো। অন্য বাড়িতেও অনেক মানুষ আসতো। গ্রামটা আস্তে আস্তে পরিপূর্ণ হয়ে উঠত। অনেক মানুষ কিছু চেনা কিছু অচেনা। খুব ভাল লাগত। এরমধ্যে মা দূর্গা তাঁর পূর্ণরূপ ধারণ করতেন। পঞ্চমীর দিন গভীর রাতে শেষ হত ঠাকুর তৈরি। সারারাত আমরা সবাই ঠাকুর তৈরি দেখতাম। ভোর হওয়ার আগে মা দূর্গা নিজের আসনে বসতেন। খুব আড়ম্বর ছিলনা। সোলার সাজ ও এক চালার মূর্তি। তাতেই এত সুন্দর লাগতো যেটা প্রকাশ করা মুস্কিল। ভোর চারটের সময় শুরু হত সানাই। মাকে বরন হত ঊষা লগ্নে। তার পর শুরু হত ষষ্টির বোধন। সে অনেক ব্যাপার। বলে শেষ করা মুশকিল।
ছোটবেলায় পুজো মানেই ছিল বাড়ি ভর্তি লোকজন। অন্য সময় দাদু ঠাকুমা কাকিমা আমি ও আমার সমবয়সী খুড়তুতো ভাই – এই ছিল পরিবার। পুজোর সময় আসতো আমার মা বাবা ও ভাইবোন রা। সে যে কি আনন্দ। এছাড়া আসতো জ্যাঠা কাকা জেঠিমা ও জাঠতুতো দাদা দিদিরা। বাড়ি ভর্তি লোক - পড়াশোনা বন্ধ, খালি খেলা আর খেলা। শাসন ও অনেক কমে যেত ঐ কদিন। নতুন জামা কেনা হত। সবার জন্য এক রকম। আমরা চন্ঠিমন্ঠপে একসাথে থাকলে সে এক অদ্ভুত দৃশ্য ।আমাদের পরিবারে মেয়েরা সব সময় দামি। দিদি ও বোনদের পোশাক হত খুব সুন্দর ও দামি। আমরা সবমিলিয়ে সাতভাই। সবার এক রং এর পোশাক হত। মনেহত ফৌজ চলেছে। যাই হোক তখন ওটা কোনও মুখ্য বাপ্যার ছিলনা। আনন্দ ছিল প্রতিক্ষণে।
আবার পূজো এসে গেছে।
No comments:
Post a Comment